বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩
Ajker Dainik
 নগর ভবনে মেয়র আতিকের সহচর পিয়াসকে গণধোলাই;

ডিএনসিসির দুর্নীতিবাজরা চাকরি হারনোর আতঙ্কে:

আজকের দৈনিক | আবুল কাশেম:

প্রকাশিত: আগস্ট ২৫, ২০২৪, ০৮:০৩ পিএম

ডিএনসিসির দুর্নীতিবাজরা চাকরি হারনোর আতঙ্কে:
ছবি সংগৃহিত

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) নগর ভবন এবং আঞ্চলিক কার্যালয়ের প্রভাবশালী দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ও কর্মচারী নেতারা আজ চাকরি হারানোর আতঙ্কে রয়েছেন। একই সাথে দীর্ঘদিনের সুবিধা বঞ্চিত এবং নানা অজুহাতে অযাচিত হয়রানীর শিকার সাধারণ কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা সংঘবদ্ধ হয়েছে। এই সংক্ষুব্ধ কর্মচারীরা ডিএনসিসির বর্তমান প্রশাসক, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিবের দপ্তরে  শীর্ষস্থানীয় দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনী পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছেন।

এদিকে রোববার (২৫ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১ টায় নগর ভবনের সাবেক মেয়র মো.আতিকুল ইসলামের লুটপাটকারী সিন্ডিকেটের সক্রিয় সদস্যদের মধ্যে অন্যতম জনসংযোগ বিভাগের তথ্য ও গবেষণা কর্মকর্তা পিয়াস হাসানকে গণধোলাই দিয়ে নগর ভবন থেকে বেরকরে দিয়েছেন সংক্ষুব্ধ কর্মচারীরা। মূহুর্তের মধ্যে এই ঘটনা ডিএনসিসিতে ছড়িয়ে পড়েছে।

একই সঙ্গে কোটি কোটি টাকা লুটপাটকারীদের মাঝেও  নতুন করে গণধোলাই আতঙ্ক বিরাজ করছে। তবে সাধারণ কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মাঝে অনেকটা স্বস্তি ফিরে এসেছে। কারণ বর্তমান প্রশাসন ডিএনসিসিকে সত্যিকার একটি সেবামূলক, জবাবদিহি এবং দুর্নীতি মুক্ত হিসেবে গড়ে তোলার জন্য নানা উদ্যোগ গ্রহণ করছেন বলে জানা যায়।

এদিকে ডিএনসিসির নতুন প্রশাসক মো.মাহমুদুল হাসান এনডিসি গত ২০ আগস্ট দায়িত্ব গ্রহণ করেই সবাইকে জানিয়ে দিয়েছেন, ডিএনসিসিতে অনিয়ম, দুর্নীতি, ভুয়া বিল ভাউচারে কোটি কোটি টাকা লুটপাটের অভিযোগ অবশ্যই তদন্ত করা হবে। দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এই সংস্থায় দুর্নীতিবাজদের স্থান নেই।

তিনি ডিএনসিসির সকল কর্মকতা-কর্মচারী এবং গণমাধ্যমের সহযোগিতা চেয়েছেন। একই সঙ্গে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মীর খায়রুল আলম রোববার (২৫ আগস্ট) এই প্রতিনিধিকে বলেন, দুর্নীতি, অনিয়ম এবং লুটপাটের সাথে জড়িতদের ছাড়া দেওয়া হবে না। তদন্তে দোষী প্রামাণীত হলে অবশ্যই আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি ডিএনসিসিকে দুনীতিমুক্ত একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলাতে সবার সহযোগতা চেয়েছেন।

অপরদিকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের ডিএনসিসির সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন বুলেট এই প্রতিনিধিকে বলেন, এই সংস্থার চিহ্নিত দুর্নীতিবাজ, কোটি কোটি টাকা লুটপাটকারী এবং সাবেক মেয়র মো.আতিকুল ইসলামের সহযোগিদের কোন ছাড় নেই। বর্তমান প্রশাসক, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং সচিব স্যারকে বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ওই নিদের্শনার আলোকে ইতোমধ্যে বর্জ্যব্যবস্থাপনা বিভাগ, বিদ্যুৎ বিভাগ, সমাজ কল্যাণ বিভাগ, রাজস্ব বিভাগ ও জনসংযোগ বিভাগসহ আরো কিছু দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্তা গ্রহণ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। 

সূত্র মতে, গত ১৮ আগস্ট দিবাগত রাতে ডিএনসিসির তথ্য ও গবেষণা কর্মকর্তা পিয়াস হাসানসহ কয়েকজন কর্মকর্তার সহযোগিতায় আতিকুল ইসলাম গোপনে নগর ভবনে ঢুকে কিছু নথি এবং পুরনো বিল ভাইচারে পেছনের তারিখে স্বাক্ষর করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অবশেষে ওইসব বিল ভাইচার এবং বিতর্কিত নথি আটকে দিয়েছেন বর্তমান প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। গত ১৮ আগস্ট রাতে খবর পেয়ে সাধারণ কর্মকর্তা ও কর্মচাররা নগর ভবনে মেয়র আতিকুল ইসলাম এবং সহযোগিদের ধাওয়া করলে পেছনের গেট দিয়ে কিছু নথি পত্র নিয়ে পালিয়ে যায় আতিকুল ইসলাম ও তার সহযোগিরা।
 
নাম না প্রকাশের শর্তে ডিএনসিসির একাধিক কর্মচারী এই প্রতিনিধিকে জানান,আমিনবাজার ল্যান্ডফিল্ডের একাধিক প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ নথিগুলো তদন্ত করলে অনেক জালিয়াতি, শত কোটি টাকা লুটপাটের তথ্য প্রমাণ  রেবিয়ে আসছে। ল্যান্ডফিল্ডের দীর্ঘদিনের কথিত উন্নয়নের নামে কি ভাবে বিল ভাউচার তৈরি হয়েছে, ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের মালিকদের পরিচয় খোঁজ নিলেই থলের বিড়াল বেরিয়ে আসবে। সেই সাথে ওই ল্যান্ডফিল্ডের নতুন জমি কেনাতে আরো বড় ধরনের অনিয়ম ও জালিয়াতির তথ্য পাওয়া যাবে।

এছাড়া ডিএনসিসির যান্ত্রিক বিভাগের কয়েক শত কোটি টাকায় কেনা রোড সুইপাড়, পেলোডার ডাম্পার ট্রাকসহ অন্যান্য যানবাহন ও যন্ত্রপাতি অকেজো অবস্থায় ফেলে রাখার অভিযোগ রয়েছে। কোটি কোটি টাকায় কেনা যন্ত্রপাতি ও গাড়ি কিছু দিন পরই অকেজো হয়েছে, উল্লেখ করে মেরামতের নামে বড় অঙ্কের বিল ভাউচার করা হচ্ছে। পাশাপাশি ওয়ার্কশপে সেগুলো দিনের পর দিন পড়ে থাকলেও  তদারকি করার মতো কেউ নেই।

আরো অভিযোগ রয়েছে, বিদ্যুৎ বিষয়ক প্রকৌশলী এসএম শফিকুর রহমান অদৃশ্য খুটির জোরে ’ সিভিল ইঞ্জিনিয়ারি ও যান্ত্রিক ইঞ্জিনিয়ারি’ বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ পদ দখল করে আছেন। তিনি আমিনবাজার ল্যান্ডফিল্ডের তত্ত্বাবধায়ক ও প্রকল্প পরিচালকসহ আরো বেশকয়টি দায়িত্ব নিজের নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন।

তবে সরকার পরিবর্তনের সাথে সাথেই প্রকৌশলী এসএম শফিকুর রহমান এবার বিএনপি পরিবারের লোক হিসেবে নিজেকে জাহির করার চেষ্টায় আছেন। এতোদিন এসএম শফিকুর রহমান নিজেকে আওয়ামী লীগের একনিষ্ঠ সমর্থক, মেয়র আতিকুল ইসলামের আজ্ঞাবাহ, ডিএনসিসির সাবেক প্রধান বজ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম এবং সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সেলিম রেজাসহ মেয়র দপ্তরের সিন্ডিকেটের সদস্য ও বিশ্বস্ত লোক ছিলেন।   

এই সিন্ডিকের বিরুদ্ধে আরো অভিযোগ হলো;  সহকারি বর্জ্যব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মহসিনের নামে ডিএনসিসির দেওয়া মোটর সাইকেল নম্বর ঢাকা মোটর সাইকেল. ১৫- ২৮৯৩। এই গাড়িটি গত ১৮ জুলাই উত্তরায় আঞ্চলিক কার্যালয়ের সামনে দুষ্কৃতিকারীরা জ্বালিয়ে দিলেও সেই মোটর সাইকেলের নামে গত ২০ আগস্ট পর্যন্ত জ্বালানী তেল নিয়েছেন। তিনি প্রতি ৫ দিন পর পর ৯ লিটার করে জ্বালানি তেল নিচ্ছেন। 

আ. দৈনিক / একে


 

Link copied!